একটা রাস্তার উপরের আবছা ফলকে লেখা ছিল বাংলায় – অপুর পথ। রাস্তাটা
এবড়ো খেবড়ো, দুপাশে গাছের সারি, রাস্তাটা দিয়ে চললে একটা ভাঙাচোরা বাড়ি, যার গায়ের
উপর অজস্র লতাপাতা, যাকে ঘিরে গাছপালা, কত নাম না জানা পোকা আর ঝিঁঝিঁর আওয়াজ।
প্রায় অন্ধকার তখন। সূর্য ডুবে গেছে। আবছা আলো। এই সহস্রাব্দের শুরুতে এক হেমন্তে দাঁড়িয়েছিলাম এই বাড়িটার
সামনে, সদ্য যুবক আমি, বুঝতে কিছুটা সময় লেগেছিল, এই বাড়িটার কার – এই পথে হাঁটতেন
বিভূতিভূষণ।
বস্তুত ঘাটশিলায় আমার যাওয়াটা ছিল কৌতুহলবসত এবং আকস্মিক। সেই সময় আমার জেঠিমার হল পেটের ব্যামো এবং অনেকদিন ভোগার পর সুদীপ্তদা মানে তাঁর জামাই নিদান দিলেন একটু জল হাওয়ার পরিবর্তন দরকারি। আমরা বাড়িতে প্রথমে হাসাহাসি করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটাকে নাকচ করা হল না। শীতকাল আসন্ন, কাজেই জেঠুও বেড়াতে যাওয়া ও শরীর ফেরানো এই দুই পাখি এক ঢিলে মারার উদ্দেশ্যে একটা গেস্ট হাউজ বুক করে ফেলল দিন পনের-র জন্য। আমি কলেজে পড়ি, সে সময় কি আর কাজ, ভাবলাম ঘুরে আসি ওদের সঙ্গে, যতদিন ইচ্ছে হয় থাকব তারপর বোর হয়ে গেলে ফিরে আসব। সঙ্গে সিলেবাস-পাঠ্য রিটার্ন অব দ্য নেটিভ (ওটা পড়া হচ্ছিল না, এত বিরক্তিকর) আর সদ্য সেকেন্ড হ্যান্ড-এ কেনা হুইটম্যান-এর লিভস অফ গ্রাসের একটা পেল্লায় প্রেন্টিস হল এডিশন নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম জেঠুদের সঙ্গে। ইস্পাত এক্সপ্রেস ধরে ঘাটশিলা।
এই সহস্রাব্দের শুরুতেও আমাদের জীবনটা কী অন্যরকম ছিল, গতির এবং যোগাযোগের এত হুড়ুমতাড়াম ছিল না, স্বাস্থ্য ফেরানোর জন্য এমন করে কেউ বেরিয়ে পড়তে পারত, সময় ছিল হাতে, গেস্ট হাউজ ভাড়া করে একটা জায়গায় থাকা যেত বেশ কিছুদিন। এই শান্ত সুন্দর ব্যাপারটা আমার যৌবনের শুরুতেই দাগ কেটেছিল, যেমন কৈশোরে – বিভূতিভূষণ।
যদিও সে সময় মাথায় আসেনি বিভূতিভূষণ ও ঘাটশিলার
যোগসূত্র। আমি বিভূতিভূষণের দেখা ঘাটশিলা দেখিনি। সেই গালুডি, সেই রাখা
মাইনস, সেইসব বর্ণনা সেই সব গাছপালা রোদ-জল-মাখা প্রকৃতি বদলেছে সময়ের অমোঘ নিয়মে।
আমি তাই বিভূতিভূষণের দেখা ঘাটশিলা দেখিনি আমি দেখেছি বিভূতিভূষণের ঘাটশিলা।
নিঝুম শহরে ঘুম ভাঙত গেস্ট হাউজ-এর দোতলার জানলায়
যখন রোদ মিঠে-কড়া। চা জলখাবার খেয়ে অল্প হেঁটে চলে যেতাম সুবর্ণরেখার ধারে। সে এক আশ্চর্য
নদী। স্বচ্ছ জলের তলায় সোনালী বালি আর পাথর। পা ডুবিয়ে একটা উঁচু পাথরে বসে বসে
দেখতাম লম্ব সরু নৌকায় লোকজন পেরচ্ছে এপার ওপার। নৌকাটাকে দাঁড় টেনে নিয়ে যাওয়ার
মতো জলের গভীরতা নেই। তাই একটা লম্বা বাঁশ দিয়ে ঠেলে ঠেলে চলছে পারাপারের
কাজ। বোঁচকা-বুঁচকি, সাইকেল নিয়ে লোকজন
পেরচ্ছে, নদীর ধারে গরু চরাচ্ছে, কাপড় কাচছে কেউ, স্নান করছে। ওপারে সবুজ গাছের
সারি। এই নদীকে তালসারিতে দেখেছিলাম কিছুদিন আগেই, বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে।
কিন্তু সে সুবর্ণরেখা আর এ নদী এক নয়। সে ছিল মোহনার কাছে, বার্ধক্যজনিত স্থির। আর এ নদী যুবতী। বর্ষার উত্তাল চেহারা আমি দেখিনি
কিন্তু হেমন্তের এই সকাল দুপুরে বসে বুঝতে
পারতাম বাঁধ ভাঙলে কি বাণ ডাকতে পারে। সত্যি এর বালিতে সোনা মিশে আছে কি না জানি
না, গোল্ড রাশ এর অভিযাত্রীরা এর সুলুক সন্ধানে এখনো থাকে কি না জানি না – তবে যদি নাও থাকে
তবু এ সুবর্ণ রেখাই। এ সোনার সন্ধান পেতে পারে যারা ভাবুক, যারা শিল্পী – তারা। যারা প্রকৃতির বুক চিরে তুলে আনবে না কোনো কেজো হলদে
ধাতু বরং খুশি হবে দেখে প্রকৃতির মধ্যেই রয়েছে আনন্দের সমস্ত সামগ্রী। এমন সব
ভাবনা মাথায় আসত ওখানে বসে। কারণ ওই একই জায়গা
যা দেশের সবচেয়ে ধনী খনিজ সম্পদে, সেই অঞ্চলেই তো দেখলাম কি গরিব সব মানুষজন। অথচ
তারাও রয়েছে নিজেদের অবস্থার ব্যাপারে উদাসীন, বেঁচে রয়েছে নিজেদের মতো। মাইনিং,
ইন্ডাস্ট্রি, রাষ্ট্রের সম্পদ আহরণের যে সব ব্যবস্থা, যেন ঠিক তাদের জন্য নয়,
তাদের আদিভূমির তলা থেকেই তুলে আনা হচ্ছে, ব্যবহার করা হচ্ছে তাদেরই শ্রম অথচ
তাদের দারিদ্র আদৌ গেছে বলে তো মনে হয়নি। বাংলা
থেকে বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড এত সব পরিবর্তন তাতে বদলালটা কি, সিংভূমের মানুষ যেমন
ছিলেন তেমনি রয়ে গেলেন।
এ শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক এক রাজনীতির কথা নয়। এই যে সিংভূম অঞ্চল, এই যে রুক্ষ আন্দোলিত অনুচ্চ মালভূমি, তার প্রকৃতি তার মানুষজন সব মিলিয়ে একটা জীবন চর্যা এ তো একদিনের ব্যাপার নয়। হাজার বছর শুধু খেলা করে লিখেছিলেন জীবনানন্দ, সেটা আত্মস্থ করার শক্তি আমরা দিন দিন হারিয়ে ফেলছি। বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী মিশে গিয়েছিল ওয়াল্ট হুইটম্যান-এর সঙ্গস অফ ওপেন রোড-এ – এ তো আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা। সে সময় বিভূতিভূষণের সেই ভেঙে পড়া বাড়ি, সেই সব ধুসর রাস্তাঘাট, ঝোপঝাড়, কত নাম না জানা পাখি পোকা মাকড় আমার শহুরে চোখকে জানিয়ে যাচ্ছিল, তোমার বাঁচাটাই একমাত্র বাঁচা নয়, আরো অজস্র রকম জীবন রয়েছে, তুমিও তার অংশ হতে পারো, তুমিও তাদেরই একজন। হ্যাঁ আমার সৌভাগ্য আমার ছোটবেলা থেকে আম আঁটির ভেঁপু আর চাঁদের পাহাড় মুছে যায়নি, আরণ্যককে জেনেছিলাম, তাই হয়তো একেবারে সুদূর ছিল না সব কিছু। তবে শুধু বইয়ের পাতা থেকে তো কিছু হয় না, তাই নিবিড়ভাবে বিভূতিভূষণকে জানলাম সেইবার। তার ওই ভেঙে পড়া বাড়ি আর তাঁর ওই ঘাটশিলায়।
সেই ঘাটশিলায় তিনি নেই কত বছর? পঞ্চাশেরও উপর
বোধহয়। তখন কোথায় গালুডি ব্যারাজ, কোথায় এসটিড আই্এসডি বুথ – বদলে গেছে এত কিছু। কিন্তু কোথাও তবু
রয়ে গেছিলেন বিভূতিভূষণ। কবির সুমনের গানটা কতটা সত্যি বুঝতে পেরেছিলাম পরে যখন
শুনি। ঘাটশিলার বিকেলগুলোয় হাঁটতে হাঁটতে চলে যেতাম নিজের মতো। জেঠু জেঠিমারা
নিজেদের মতো বেরত। আমিও আমার মতো ঘুরে বেরিয়ে সন্ধেবেলা ফিরে এক সঙ্গে চা খেতাম।
সঙ্গে টা, চপ মুড়ি। হজমের জন্য যাওয়া, সত্যি মিরাকল ছিল জলে, আমাদের বাঙালি পেটে
চপটপ সব হজম হয়ে যেত। আমাদের কেন সবার কাছেই এই জল ছিল প্রসিদ্ধ। রেল স্টেশনের পাশে
একটা বড় ইঁদারা ছিল, সেখান থেকে জল নিতেন তামাম ভারতের যত জাত-ধর্ম-বর্ণের মানুষ
আছেন রেলের সঙ্গে যুক্ত – ট্রেনের গার্ড,
ড্রাইভার, টিকিট চেকার সবাই। তাঁদের ট্রেনে করে জলের জেরিক্যান-গুলো চলে যেত কোন
সুদূর। জেরিক্যানগুলো জামশেদপুর, খড়গপুর, ভুবনেশ্বর, কলকাতা, পাটনার কত কোয়ার্টারে
পৌঁছচ্ছে, কতরকমের সংসার কত সুখ দুঃখের সাথী হচ্ছে। জেরিক্যান-গুলো যেন একেকটা
কথকঠাকুর যা ওই ইঁদারার পাশে স্থির বসে শোনাচ্ছে গল্প, আর আশপাশের গাছগুলো,
ইঁদারার বালতি সে সব শুনছে, আর শুনছে কাঠবেরালি দুটো যারা চুপ করে বসে থাকত একটু
দূরে।
হাঁটতে হাঁটতে চলে যেতাম শহর পেরিয়ে কখনো,
গালুডির রাস্তায়, হাইওয়ের ধার দিয়ে অন্ধকারে হাঁটতাম, মাথার উপর খোলা আকাশ, কত
তারা, আমি কালপুরুষ চিনি না চিনি না কোনটা সপ্তর্ষি কিন্তু তাদের আলোতেই তো
উদ্ভাসিত থাকত দূরের বন, পাহাড়। হুশ হাশ গাড়ি চলে যেত আলো জ্বালিয়ে তারপর আলো বলতে
শুধু জোনাকি, ঝোপের উপর। রোজ একটা নতুন রাস্তা দিয়ে ফেরার চেষ্টা করতাম। কখনো সখনো
সেই রাস্তা বিভূতিভূষণের বাড়ির সামনে দিয়েও আমাকে হাজির করেছে গেস্ট হাউজটার কাছে।
বাঙালিদের ছেড়ে যাওয়া বাড়িগুলো, একেকটার একেকটা
নাম, তাদের ভগ্ন দশা, তাদের কতদিনের নিঃসঙ্গতার ঝাপটা এসে লাগত গায়ে। আমার যে দুঃখ
হত তা ঠিক নয়, একটা ‘মেলানকলিয়া’ ছিল কিন্তু তার সঙ্গেই এমন প্রকৃতির
বুকে ওদের নিঃসঙ্গতা দেখে মনে হত এটাই তো হবে। ওদের দিন ফুরিয়েছে, বটের, অশ্বত্থের
শিকড়ে জড়িয়ে ওরা শেষ হয়ে যাবে। পৃথিবীর কোনো সভ্যতা, কোনো সৌন্দর্যই চিরস্থায়ী নয়।
আগে কী ছিল তা ভেবে হাহুতাশ করে কী হবে। কোন রায় বাহাদুর, লর্ড অমুক তশুক এখানে
তাদের বেড়ানোর জন্য বা স্বাস্থ্য-ফেরাতে বাড়ি করেছিলেন তাতে কী, সেই সব ইতিহাসে
কিছু যায় আসে আজ?
আমার তার চেয়ে বেশি ভাল লাগত কুণ্ডুবাবুর ভাতের
হোটেলটাকে। আমাদের গেস্ট হাউজ-এ রান্নার জন্য স্টোভ-টোভ পাত্র-টাত্রের ব্যবস্থা
থাকলেও আমরা রান্না করে খেতাম না। কারণ গেস্ট হাউজ থেকে বেরিয়ে কিছুটা গেলেই ছিল
কুন্ডুবাবুর হোটেল। বয়স্ক ভদ্রলোকের গলায় কণ্ঠি এবং বৈষ্ণব বিনয় দুইই ছিল সবসময়ের সঙ্গী। টিনের একটা ক্যাশবাক্স নিয়ে বসে থাকতেন, টেবিলে বসলে নিজে এসে জিজ্ঞেস করতেন কি লাগবে। এখন মনে
হয় আদর্শ হিন্দু হোটেল কী তা চাক্ষুষ করার জন্য কুন্ডুবাবুই যথেষ্ট। ভাতের হোটেল ওখানে আরো অনেকই ছিল তবে ওনারটা বেশ
চালু তা ভিড় দেখে বোঝা যেত। আর খাবারের পদের ব্যাপারে তার কোনো না ছিল না। শাক থেকে শুক্ত, ছোলার
ডাল থেকে ধোঁকার ডালনা, মাছের কালিয়া থেকে গরম গরম মাংসের ঝোল – ওনাকে বলে দিলেই
হত এক বেলা আগে। আর গরম গরম সেই খাবার চর্ব্য চোষ্য করার পর তিনি হাত কচলে মৃদু
হেসে প্রশ্ন করতেন, কি ভাল ছিল তো আজকের রান্না? ধুতি, ফতুয়া পড়া এই ভদ্রলোক
বলতেন, এটা শুধু তার ব্যবসা নয় এটা তার ধর্মে বলে – সেবা। সেই কথা
বলার ভঙ্গিতে হাসি পেয়ে যেত আমার, রুমাল দিয়ে মুখ মোছার ভঙ্গিতে বেরিয়ে আসতাম, মৌরি
চিবতে চিবতে।
কাঠের জ্বালে রান্না হত। উনুন ধরতে সময় লাগে তাই ভোর
ভোর শুরু হয়ে যেত তার প্রস্তুতি। ওখানে বেশিরভাগই দেখেছি কাঠে জ্বালে রান্নার
ব্যবস্থা, সাইকেল-এর পিছনে চেরা কাঠ নিয়ে বিক্রি করতে দেখেছি কতজনকে। আর তাঁর
দোকানে এই উনুন জ্বালানো থেকে, বাসন মাজার কাজ করত দুই বুড়ো। দুজনেই সাঁওতাল।
বয়সের হিসেব বোঝা আমার পক্ষে অসম্ভব কিন্তু অমন ঝুলে যাওয়া চামড়া অমন রেখাময় মুখ
আমি আর কখনো দেখিনি। দুজনের মুখেই শাদা দাড়ি, জানি না, কেমন দেখে মনে হত ওরা
দুজনেই যমজ। এই মানুষ দুটি কথা বলত না বললেই
চলে। চুপচাপ কাজ করে যেত। পরনের পোশাক বলতে নোংরা ছেঁড়া সোয়েটার আর তলায় পাজামা।
পায়ে চটি ছিল না। কাঁপা কাঁপা হাতে একজন উনুনের সামনে উবু হয়ে বসে হাওয়া দিচ্ছে, আরেকজন
ওই ঠাণ্ডা জলে বাসন ডোবাচ্ছে কাঁপতে কাঁপতে। অথচ চোখে কোনো রাগ বা ক্ষোভের চিহ্ন
নেই। সকাল বেলা বেরনোর সময় যেমন দেখতাম তেমনি রাতে খেয়ে বাসায় ফেরার সময়। সারাক্ষণ
কাজ করছে। একজন বিড়ি টানত আরেকজন দোক্তা পাতা ধরনের কিছু চিবত। কি সামান্যতম
জীবনধারণ এদের, এই ন্যুনতম নিয়ে তাদের টিঁকে থাকা। এটাই বিভূতিভূষণের ভারতবর্ষ। এর
হদিশ পাওয়া যায় সহজেই কিন্তু ভালবাসাটা থাকা দরকার। সংকীর্ণ ব্রাহ্মণ্যবাদ দিয়ে একে
চেনা যায় না, একে চেনা যায় ঐতিহ্য আর আধুনিক মন ও মননের সংযোগে।
এই দুই বুড়ো মাঝে মধ্যে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করত,
দুজনের গলার স্বর খুব উঠত তা নয়, একে অপরের সামনে দাঁড়িয়ে বিড় বিড় করে অভিযোগ করত,
কিন্তু দুজনে কেউ কারো মুখোমুখি হত না বা তাকাত না একে অপরের দিকে। একজন চেয়ে আছে
উনুনের দিকে তো আরেকজন হোটেলের ভিতর। কী নিয়ে ঝগড়া করত কে জানে, ওদের ঝগড়ায় কেউ
আমলও দিত না, রান্নার মহিলাটি, কম বয়সী জোগাড়ে, বা কুন্ডুবাবু কেউই। এবং এই ঝগড়া থেমে গেলে দেখা যেত আবার তারা চুপচাপ কাজ করে চলেছে।
এদের জীবনের গল্প আমি জানি না। এদের গল্পটাই তো ঘাটশিলার গল্প, সিংভূমের গল্প। এদের দেখেছি মার্কেজ-এর আর্কাটাকায়, এদের দেখেছি আমি বহুবার স্টাইনবেক-এর উপন্যাসে। ফনীশ্বরনাথ রেণুতে মিশে আছে এইসব মানুষের গল্প। তামাম পৃথিবীতে মানুষের গল্পটা আসলে এদেরই। এইসব গল্প আমি জানি না, লিখতেও পারব না হয়তো তাই কখনো সেভাবে। আমাদের এসব না জানা পেরিয়ে নাম জানা ফুলের মতো, ঝরেছে মরেছে এইভাবে গল্পগুলো, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে নয়, প্রকৃতির সুন্দর এক নিয়মে। বহুদিন যাইনি সেখানে আর আমাদের বিস্মৃতি বড় গিলে ফেলে সব কিছু। তাই এখন মনে হয় ভাগ্যিস এই গল্পগুলো আমাদের জানাতেন কেউ কেউ। যেমন জানাতেন বিভূতিভূষণ।
প্রকাশিত: মৌরিফুল পত্রিকা (বিভূতিভূষণের উপর চমৎকার কাজ করে চলা এক পত্রিকা)



2 comments:
আমি কখনও ঘাটশিলা যাইনি। কিন্তু পড়েছি, শুনেছি। তোমার ব্দেখাও ভারি সুন্দর টানলো। আমি শহরে বড় হয়নি, হয়েছি লতাপাতা আর ধানি জমির আশেপাশে। প্রবল বর্ষার কাদা, সন্ধার ঝিঁঝিঁ, তালবন এসব আমার কাছেই। গরমের সন্ধ্যায় হ্যারিকেন জ্বেলে মাদুর বিছানো উঠোন আর পাঠ্যবইয়ের তলায় পথের পাঁচালী। কাল এইট নাইন হবে। আমাদের অপু দুর্গা সেতো আমরাই। নারকোল মালায় আমকুচি খাওয়া তার আগেই হয়ে গেছে। ঘাটশিলার গল্প চোখ বন্ধ করতে বলছে। কারণ এখন শহরে আছি। আর দূরে তোমার ঘাটশিলা, বিভূতিভূষণ, কুণ্ডুবাবু আর আমার না হওয়া অপু।
ধন্যবাদ। হ্যাঁ আমার নিজের জন্ম বড় হয়ে ওঠার মধ্যে মফস্বল রয়েছে, যদিও শহর ক্রমশ তাকে গিলে নিতে থাকে। তবু একটা আভাস ছোটবেলায় পেয়েছি বিভূতিভূষণের বাংলার।
Post a Comment